ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৭:২৪ পিএম

মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে পরীক্ষাভিত্তিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

আজ মঙ্গলবার আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে অটোপাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। পরীক্ষার মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবভিত্তিক ও সঠিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর উদ্যোগে পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়ন করার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র বা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন জরুরি। যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম বা নকলের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও নির্দেশনা দেন যে, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শরীর তল্লাশি বা বডি সার্চ নিশ্চিত করতে হবে। নকল প্রতিরোধে শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কেন্দ্রের টয়লেট বা অন্যান্য স্থানে নকল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে বলে তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও মোটিভেশনাল মিটিং আয়োজন করা হবে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব জেলায় জিলা স্কুল নেই, সেখানে জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব স্কুল প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যা উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যায়ন পদ্ধতিকে যুগোপযোগী করা হবে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানরা তাদের প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে পরীক্ষার ফলাফল প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি মানসম্মত শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।


এ সম্পর্কিত আরো খবর