মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—গোয়ালীমান্দ্রা বেদে পল্লী এলাকার মো. সাগর হোসেন (২৪) ও মো. সানারুল হাসান (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সাতঘড়িয়া গ্রামে বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় দুই যুবককে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মারধরের মুখে তারা চুরির কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন উপস্থিত কয়েকজন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দুইজনকে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, আইনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয়রা নিজেরাই বিচার করার চেষ্টা করায় এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, লৌহজংয়ে গণপিটুনিতে আহত দুই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ আরও জানায়, গণপিটুনির ঘটনায় কারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে এবং কারা উসকানি দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সময় ধারণ করা কোনো ভিডিও ফুটেজ থাকলে তা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। গণপিটুনির মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক এবং এতে নিরপরাধ কেউও প্রাণ হারাতে পারেন। তারা এ ধরনের প্রবণতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার পর সাতঘড়িয়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।