ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

গাজীপুরে রাহিম হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন : ভাইসহ গ্রেপ্তার ২


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

গাজীপুরে ১৩ বছর বয়সী রাহিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গভীর শালবনের ভেতরে গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে লাশ গুমের ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই আলামিন হোসেনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানা এলাকায় রাহিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ গভীর শালবনের ভেতরে নিয়ে গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি আড়াল থাকে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার শালবনের ভেতর থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় রাহিমের বাবা নুরুল ইসলাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ মার্চ ভোরে মির্জাপুর এলাকা থেকে আলামিন হোসেন ও তার সহযোগী আশিক আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আলামিন হোসেন ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ বিরোধ থেকেই তিনি তার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রাহিমকে কৌশলে বনে ডেকে নেন। সেখানে প্রথমে মাফলার দিয়ে গাছে বেঁধে এবং মুখে আঠাযুক্ত ফিতা পেঁচিয়ে ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে গলাটিপে তাকে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল ও হত্যার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের সদস্যের হাতে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক। একটি তুচ্ছ বিরোধের জেরে এমন পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন অনেকে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ বলছে, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ কখনোই অপরাধের বৈধ কারণ হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিণতি ভয়াবহ। হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর