ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

গাজীপুরে রাহিম হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন : ভাইসহ গ্রেপ্তার ২


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

গাজীপুরে ১৩ বছর বয়সী রাহিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গভীর শালবনের ভেতরে গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে লাশ গুমের ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই আলামিন হোসেনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানা এলাকায় রাহিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ গভীর শালবনের ভেতরে নিয়ে গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি আড়াল থাকে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার শালবনের ভেতর থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় রাহিমের বাবা নুরুল ইসলাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ মার্চ ভোরে মির্জাপুর এলাকা থেকে আলামিন হোসেন ও তার সহযোগী আশিক আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আলামিন হোসেন ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ বিরোধ থেকেই তিনি তার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রাহিমকে কৌশলে বনে ডেকে নেন। সেখানে প্রথমে মাফলার দিয়ে গাছে বেঁধে এবং মুখে আঠাযুক্ত ফিতা পেঁচিয়ে ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে গলাটিপে তাকে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল ও হত্যার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের সদস্যের হাতে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক। একটি তুচ্ছ বিরোধের জেরে এমন পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন অনেকে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ বলছে, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ কখনোই অপরাধের বৈধ কারণ হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিণতি ভয়াবহ। হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর