ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনাল জয়


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৩৭ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে দশের অধিক রেকর্ড গড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেবল ফাইনালে উঠে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, তবে চলমান আসরে তারা টানা সাত ম্যাচ জয়ের পর সেমিফাইনালে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। শেষ ম্যাচে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েও মাত্র ১২.৫ ওভারে ৯ উইকেটে হেরে গেছে প্রোটিয়া দল। এই একপেশে হারের মূল কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে ফিন অ্যালেনের অসাধারণ ব্যাটিং।

নিউজিল্যান্ডের ডানহাতি ওপেনার ফিন অ্যালেন এক ইনিংসে একাধিক রেকর্ড গড়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। অ্যালেন ৩৩ বলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন। এর আগে এই কীর্তি ৪৭ বলে, ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে ক্রিস গেইলের দখলে ছিল। নারী ক্রিকেটেও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার দিয়েন্দ্রা ডটিন ৩৮ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছিলেন। অ্যালেনের ৩৩ বলে সেঞ্চুরি নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বকালের দ্রুততম। এর আগে গ্লেন ফিলিপস ২০২০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।

অ্যালেনের এই সেঞ্চুরি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততমের তালিকায় তৃতীয়। এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান ২৭ বল এবং তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ ২৯ বল করে সেঞ্চুরি করেছেন। তবে তারা ও তাদের প্রতিপক্ষ পূর্ণ আইসিসি সদস্য দেশ নয়। পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে অ্যালেনের ৩৩ বলের সেঞ্চুরি দ্রুততম। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজারও ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছেন, তবে তাদের প্রতিপক্ষ গাম্বিয়া পূর্ণ সদস্য নয়।

পূর্ণ সদস্য দেশের হিসেবেও, অ্যালেন টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন। প্রোটিয়া তারকা ডেভিড মিলার ও ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মার আগে এই রেকর্ড ছিল ৩৫ বলে। অ্যালেন তাদেরও ছাড়িয়ে বিশ্বের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে আগে কোনো ব্যাটার সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ২০০৯ সালের আসরে শ্রীলঙ্কার তিলেকারত্নে দিলশানের অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস সর্বোচ্চ ছিল। ফিন অ্যালেনের অপরাজিত ১০০ রান নকআউট ম্যাচের সর্বোচ্চ এবং একমাত্র সেঞ্চুরি হিসেবে নথিভুক্ত হলো।

ম্যাচে অ্যালেন মাত্র ১৯ বলে ফিফটি করেছিলেন। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নকআউটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। এর আগে ২০০৭ সালের অভিষেক আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুবরাজ সিং ২০ বলে ফিফটি করেছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও অ্যালেনই গড়েছেন। এর আগে চলমান আসরের কানাডার বিপক্ষে গ্লেন ফিলিপস ২২ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন।

অ্যালেন এক ইনিংসে ১৮টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছেন। ২০১২ সালের আসরে সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ১৮ বাউন্ডারির রেকর্ডের সঙ্গে এটি সমান। ১৮ বাউন্ডারিতে অ্যালেন ৮৮ রান করেন, যা পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাউন্ডারিতে সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে গেইলও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৮৮ রান করেছিলেন।

চলমান আসরে অ্যালেন এক ইনিংসে সর্বাধিক ২০টি ছক্কা হাঁকিয়ে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে এক আসরে সর্বাধিক ছক্কা ছিল ১৭টি। গতকালের ম্যাচের আগে শিমরন হেটমায়ারের ১৯টি ছক্কার রেকর্ড ছিল।

অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের জুটি চলমান বিশ্বকাপে ৪৬৩ রান করেছেন, যা যেকোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা বিশ্বকাপে নির্দিষ্ট দুজনের জুটিতে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে তাদের জুটির মাধ্যমে ফরম্যাটে ১০০০ রানের মাইলফলকও পূর্ণ হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রানের জুটি গড়ার নজির মোট ৪২টি। তবে রানরেটের দিক থেকে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে আছেন অ্যালেন-সেইফার্ট।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী শুরু হয়েছিল। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে ৮৪ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড, যা নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ এবং যেকোনো ম্যাচের হিসাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ। প্রোটিয়া দলের জন্য লড়াকু সংগ্রহ তৈরি করেছিলেন মার্কো জানসেন, যিনি ৫৫ রান করেছিলেন। এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাত বা তার কম পজিশনে নেমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী ইনিংসের ফলে নিউজিল্যান্ড প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নকআউট ম্যাচে হারাতে সক্ষম হলো। এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে নিউজিল্যান্ড কখনো জিততে পারেনি। এই সেমিফাইনাল জয় প্রোটিয়া দলের জন্য হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

অ্যালেনের ইনিংসের পর অনেক রেকর্ড স্থায়ী হলো। তার ব্যাটিংয়ে নকআউট ম্যাচে সর্বাধিক ফিফটি ও সেঞ্চুরি, দ্রুততম সেঞ্চুরি, সর্বাধিক বাউন্ডারি, সর্বাধিক ছক্কা এবং দুটি ওপেনারের জুটিতে সর্বাধিক রানসহ আরও অন্যান্য রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অ্যালেনের ইনিংসটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক যুগের শ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে, নিউজিল্যান্ডের এই জয়ের ফলে চলমান আসরে দর্শকরা উত্তেজনায় ভরে উঠেছেন। অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিং সেশনটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই ইনিংসের তুলনা করা দুষ্কর হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর