এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তির জন্য দুঃখজনক। একই সঙ্গে এমন ঘটনা দেশের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
মঙ্গলবার এক বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বৈঠকে ট্রাইব্যুনালের সব প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই ফোনালাপে অভিযোগ ওঠে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় এবং তা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়। পরে প্রসিকিউশন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিজেদের হেফাজতে নেয়।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সাইমুম রেজা তালুকদারের কাছে থাকা মামলার নথি সংগ্রহ করে তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি তিনি যেসব মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেগুলোর কার্যক্রমও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, এই ঘটনার পর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই যে কোনো অভিযোগই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি। কমিটি গঠনের পর তারা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি। এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে।
এদিকে, ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি রক্ষা করা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখা আমাদের দায়িত্ব। তাই অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা হবে।