ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ৯৯ দিনের বিরতির পর মাঠে ফিরেছে। গত ২ ডিসেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম নিয়েছিল টাইগাররা। বুধবার (১১ মার্চ) থেকে বাংলাদেশ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের সঙ্গে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামল।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টসে জিতে বাংলাদেশ বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে পাকিস্তান আগে ব্যাটিং করছে। ম্যাচটি দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়েছে। সফরকারীদের জন্য এটি বিশেষ সিরিজ, কারণ ২০০৮ সালের পর প্রথমবার চারজন নতুন খেলোয়াড়কে ওয়ানডেতে অভিষিক্ত করা হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা ভুলে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজ খেলছে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য এই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে র্যাংকিংয়ের সেরা আট দল, সঙ্গে স্বাগতিক তিন দল দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। বাংলাদেশকে অন্তত সেরা ৯-এর মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে রয়েছে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সিরিজ শুরুর আগে জানান, আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ভালো ব্যাটিং উইকেটে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাঠে নামা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং প্রস্তুতির অংশ।”
পাকিস্তান শেষবার ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলেছিল। ওই সিরিজে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। গত বছর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করেছিল পাকিস্তান। সেখানেও পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মুখোমুখি ৩৯টি ওয়ানডে খেলেছে। বাংলাদেশের জয় ৫টিতে, পাকিস্তান জিতেছে ৩৪ ম্যাচে। বাংলাদেশের ৫ জয়ের মধ্যে চারটি জয় এসেছে ২০১৫ সালের সিরিজে।
বাংলাদেশ একাদশে রয়েছেন: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা।
পাকিস্তান একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসেইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, হুসেইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন আফ্রিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, আবরার আহমেদ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘরের মাঠে এই ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যাটিং উইকেটের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নতুন খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জন করা টাইগারদের জন্য বড় সুযোগ।
মিরপুর স্টেডিয়ামে আজকের ম্যাচের আবহাওয়া ও উইকেট পরিস্থিতি দর্শকদের জন্য উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সিরিজের ফলাফলের ওপর বাংলাদেশের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সরাসরি খেলতে পারার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।