ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ছয়বাকী খাল: ইজারাকৃত সম্পত্তি ১৭ বছর পরও দখলহীন


  • আপলোড সময় : বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৫৪ পিএম

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বড় বাঁশবাড়িয়া ও বান্দাদিয়া মৌজায় অবস্থিত ‘ছয়বাকী খাল’ নামে একটি বদ্ধ জলাশয়কে কেন্দ্র করে নতুন দখল-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মা যুব উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ইলিয়াস মল্লিক দাবি করছেন, ২০০৮ সালে সমিতির নামে ইজারা নেওয়া হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারছেন না।

জানা গেছে, ওই সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী প্রায় ৫.৫৭ একর আকারের ছয়বাকী খাল সমিতির নামে ইজারা দেওয়া হয়। এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ইলিয়াস মল্লিক ইজারা নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে উচ্ছেদ করে দেন এবং নানা ধরনের নির্যাতন চালান। ফলে দীর্ঘদিন সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের পরিবর্তনের পরও তিনি পুনরায় এলাকায় গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার মুখে পড়েন।

ভুক্তভোগী ইলিয়াস মল্লিক জানিয়েছেন, বেড়িবাঁধের দুই পাশের দুটি ঘেরের একটি অংশ ডেমাপুর-বাঁশবাড়িয়া এলাকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধা শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়ামের পিতা বুলবুল আহমেদ ও তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। অন্য অংশ স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি ইজারাকৃত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে ইজারার জন্য প্রদত্ত সম্পূর্ণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়া হোক।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, “ইলিয়াস মল্লিক সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারেননি এবং অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকারি সম্পত্তি জোর করে দখল করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ বেআইনিভাবে সরকারি সম্পত্তি দখল করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে সমিতির ভোগদখল বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। তারা চাইছেন প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ইজারাকৃত সম্পত্তি ফেরত বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুক।


এ সম্পর্কিত আরো খবর