বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, বর্তমান সংসদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি এবং সেই স্বৈরাচারের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছে, তাদের কেউই এই সংসদে নেই। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, এ সংসদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা বিগত ১৫ বছর আন্দোলন করেছি তাদের কেউ এখানে নেই। এই এক জায়গায় আমাদের সবার এক থাকা দরকার যে, আমরা গণতন্ত্রকে সামনে রেখে চলব।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষা করার দায়িত্ব এখন সংসদের সব সদস্যের। দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করেছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
আন্দালিব রহমান পার্থ আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দল এবং বিরোধীদল—উভয় পক্ষের সদস্যরা যেসব শহীদের কথা বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়েই সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সংসদকে কার্যকর করতে হলে মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণও করেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বেগম খালেদা জিয়ার যে আত্মত্যাগ তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাছ থেকে দেখেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বেগম খালেদা জিয়ার যে আত্মত্যাগ আমি ব্যক্তিগতভাবে কাছ থেকে দেখেছি, যে সাহস এবং যে দৃঢ়তা তিনি দেখিয়েছেন, সে হিসেবে আমি মনে করি জীবিত খালেদা জিয়ার চেয়ে তিনি এখন আরও বেশি শক্তিশালী।
পার্থ বলেন, খালেদা জিয়ার এই আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য একটি বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দৃঢ়তা অনেক মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন দেশনেত্রীর এসব আত্মত্যাগকে ছোট করা না হয়। দেশের রাজনীতিতে তাঁর অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা প্রয়োজন।
জাতীয় সংসদে দেওয়া ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক আত্মত্যাগের বিষয়গুলো তাঁর বক্তব্যে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
আকাশজমিন / আরআর