ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ ব্যবস্থায় সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগের মতো এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা ঘরে বসেই সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এ সময় পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদের আগে ও পরে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে অগ্রিম টিকিট বিক্রির এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়েছে গত ১৩ মার্চ। ২৪ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়েছে ১৪ মার্চ এবং ২৫ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ১৫ মার্চ। একই ধারাবাহিকতায় আজ ১৭ মার্চ বিক্রি করা হচ্ছে ২৭ মার্চের টিকিট। এছাড়া ১৮ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৮ মার্চের টিকিট এবং ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৯ মার্চের টিকিট।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে। কারণ ঈদের তারিখ নির্ভর করছে চাঁদ দেখার ওপর। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই দিনগুলোর টিকিট বিক্রির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে নন-এসি কোচের কিছু স্ট্যান্ডিং টিকিটও রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন-এসি কোচের মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এতে যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন না, তারাও ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন। একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করা যাবে। এর বেশি টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে না।
এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিক্রি করা টিকিট ফেরত বা রিফান্ড করার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ একবার টিকিট কেনার পর তা বাতিল করে টাকা ফেরত নেওয়া যাবে না। যাত্রীদের পরিকল্পনা করে টিকিট সংগ্রহ করার জন্যই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের সময় ট্রেনে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ থাকে। বিশেষ করে ঈদের আগে বাড়ি যাওয়া এবং ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় টিকিটের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই আগেভাগে টিকিট সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে বলছে, অনলাইন টিকিট বিক্রির মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি কমানো এবং যাত্রীদের সহজে টিকিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যও পূরণ হচ্ছে।