ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪০


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আক্তার মিয়া। তিনি রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর আগেও গত মঙ্গলবার একই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

স্থানীয়রা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

জিয়াউর রহমানের আটক হওয়ার ঘটনায় তিনি একই গ্রামের কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে শুরু করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি জিয়াউর রহমান গোয়ালনগর গ্রামে শিশু মিয়াকে মারধর করেন এবং তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে গত মঙ্গলবার প্রথম দফায় রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ওই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল এবং উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব দেখা যায়। মঙ্গলবার সকালে সেই বিরোধ আবারও সহিংস রূপ নেয়।

সকালে দুই গোষ্ঠীর লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আক্তার মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অন্যজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। 

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর