অনলাইন রিপোর্টার
বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে সর্বোচ্চ আদালতে দায়িত্ব পালন করবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল পদটি বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদে থাকা ব্যক্তি রাষ্ট্রের পক্ষে আইনি পরামর্শ প্রদান করেন এবং সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত এবং একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দেশের তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মো. আসাদুজ্জামানের পদত্যাগের পর থেকেই অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি শূন্য ছিল। কয়েক মাস ধরে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।
আইন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সুপ্রিম কোর্টে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে এই পদে দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। তিনি সংবিধান, রাষ্ট্রীয় আইন ও গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। ফলে রাষ্ট্রের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সরকারের আইনি উপদেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। সংবিধান ও আইনি বিষয়াবলীতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে পরামর্শ দেওয়াও তার দায়িত্বের অংশ।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়, রাষ্ট্রীয় মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে আদালতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তাই এই পদে অভিজ্ঞ ও দক্ষ আইনজীবী নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের আইন অঙ্গনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার নেতৃত্বে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের আইনি দিক পর্যালোচনা এবং আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
আকাশজমিন / আরআর