সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে শহর ও গ্রামাঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গঠিত কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতর ২০২৬-এর ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই সব প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ছুটির পর নয়, বরং বছরব্যাপী এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা শিক্ষার্থীদের সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে প্রতিষ্ঠান খোলার আগে সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা। এছাড়া প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখা এবং এ বিষয়ে তদারকি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং বিদ্যমান বাগানের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন—সচেতনতামূলক ক্লাস, পোস্টার প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু থাকলে রোগবালাই কমবে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগও বাড়বে।
সব মিলিয়ে, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জারি করা এই জরুরি নির্দেশনা শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে এর সাফল্য।