সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার পর সাতক্ষীরা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ঢাকার আদাবর থানার শেখেরটেক এলাকার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন। বুধবার (২৫ মার্চ) সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিলাস মন্ডল এ আদেশ দেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মোটিভেশনাল স্পিকার আল মামুন রাসেল বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরায় মহাদেব চন্দ্র সাধু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলাসহ ৭০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং অনেক মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
আল মামুন রাসেল আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সময় মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আসামি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং কয়েকটি মামলায় তিনি কারাভোগও করেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই তিনি পাল্টা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, সাত মাস আগের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে থানার ওসি ও ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা মহাদেব চন্দ্র সাধুর বাড়ি থেকে মালামাল ও চেক চুরি করেছেন। অথচ ওই সময় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। দীর্ঘ সময় পর ভিন্ন কৌশলে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ধরনের ‘গায়েবি মামলা’ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মামলার আসামি ইসমাইল হোসেন রতন বলেন, তিনি ঢাকায় ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা সদর থানায় তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার দাবি, সাতক্ষীরার মাগুরা এলাকার মহাদেব চন্দ্র সাধুর কথিত ম্যানেজার মনোজ কুমার সরদার এ মামলা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মহাদেব চন্দ্র সাধু তাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছেন।
ইসমাইল হোসেন রতন আরও বলেন, মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৭০টি মামলা রয়েছে। তিনি অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন।
তার অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠান “রাহাবার এগ্রো” থেকে বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার সহযোগীরা প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি কৃষি উপকরণ গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা অর্থ পরিশোধ না করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করেন। পাওনা টাকা দাবি করলে উল্টো মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। এ ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।