নড়াইল প্রতিনিধি:
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। এই আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে উপচে পড়ে হাজারো মানুষের ভিড়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল তিনটার দিকে লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে নারানদিয়া রেলস্টেশন এলাকায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপলক্ষে নারানদিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বসে গ্রামীণ মেলা। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য, খেলনা, মিষ্টান্ন ও স্থানীয় খাদ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। মেলায় আগত মানুষজন কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরির মাধ্যমে সময় কাটান, যা আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
প্রতিযোগিতায় নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১২টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি ঘোড়ার সঙ্গে ছিল দক্ষ আরোহী, যারা নিজেদের সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
দুপুর থেকেই লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকা থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুরা দলে দলে এসে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলের মধ্যেই নারানদিয়া রেলস্টেশন এলাকা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এক উৎসবস্থলে রূপ নেয়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এই আয়োজন উপভোগ করতে আসেন, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসার প্রতিফলন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম হায়াতুজ্জামান। তিনি এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান, যাতে নতুন প্রজন্ম গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
এ সময় লোহাগড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ বাপ্পি, খোকন সরদার, নাজমুল হুদাসহ আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং লোহাগড়া থানা পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই এ ধরনের আয়োজনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আয়োজকরা জানান, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
এই আয়োজন প্রমাণ করে, আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এখনও জীবন্ত রয়েছে এবং মানুষের মধ্যে তার আবেদন অটুট আছে।