মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের শিবচরে দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং সাম্প্রতিক হত্যা মামলার অভিযোগে সাবেক স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলছেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে শিবচরের সাংবাদিক সমাজের আস্থা ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালে শিবচর প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারকারী স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের একটি গোষ্ঠী অবৈধভাবে নেতৃত্ব কায়েম করে এবং ভিন্নমত পোষণকারী সাংবাদিকদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জড়িয়ে জেলহাজতে পাঠানো এবং রিমান্ডের চেষ্টা এই চক্রের নিয়মিত কৌশল ছিল।
অভিযোগের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের শিবচর উপজেলা কমিটির প্রচার-সম্পাদক ও কথিত প্রেসক্লাব সভাপতি দাবিদার একেএম নাসিরুল হক, উপজেলা আ. লীগ সহ-প্রচার সম্পাদক প্রদুৎ কুমার সরকার এবং যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক খাইরুজ্জামান খান। তারা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের আড়ালে কার্যত একক আধিপত্য কায়েম করে সাংবাদিক সমাজকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে রাখে। শুধু নির্যাতন নয়, সাংবাদিকদের এলাকা ছাড়ার হুমকি, পেশাগত কাজ বন্ধ করা এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার ঘটনাও ঘটে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানাচ্ছেন, করোনা মহামারির সময় সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অনুদানের প্রায় ১০ লাখ টাকা বিতরণে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত প্রাপকদের বঞ্চিত করে অর্থ চক্রের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বিতরণ করা হয় এবং একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট সময়কালের হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “যারা একসময় সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করেছে, তারাই এখন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই চক্রটি আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, “দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, নইলে ন্যায়বিচার প্রশ্নের মুখে পড়বে।” তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক বা আর্থিক প্রভাব যেন তদন্তকে প্রভাবিত না করে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহল মনে করছে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে পারে এবং শিবচরের সাংবাদিক সমাজে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।