ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

নতুন করে আলোচনা

এক-এগারোর দুই কুশীলব ফখরুদ্দীন-মইন এখন কোথায়?


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৫৩ পিএম

বাংলাদেশের রাজনীতির বহুল আলোচিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’ অধ্যায়ের দুই প্রধান ব্যক্তি—তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ বর্তমানে কোথায় আছেন—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের অবস্থান ও বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন আসে, যা ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে পরিচিত। সে সময় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফখরুদ্দীন আহমদ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সে সময়কার সরকার পরিচালনায় সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর প্রথমদিকে ফখরুদ্দীন আহমদ দেশে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালের মে মাসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সংসদীয় কমিটিতে তলবের খবর প্রকাশিত হলে তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের পটোম্যাক এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। সেখানে তার দুটি বাড়ি রয়েছে—একটিতে তিনি নিজে থাকেন এবং অন্যটিতে তার মেয়ের পরিবার বসবাস করে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা খুব বেশি নয় বলেও জানা যায়। তিনি বেশ নিরিবিলি জীবনযাপন করছেন এবং জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায়।

অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ দায়িত্ব শেষে ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে অবসর গ্রহণ করেন। একই বছরের ১৪ জুন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শুরুতে তিনি ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

পরবর্তীতে তার শরীরে ‘মালটিপল মাইলোমা’ ক্যানসার শনাক্ত হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডার পামবিচ এলাকায় অবস্থান করছেন এবং অসুস্থতার কারণে অনেকটাই নির্জন জীবনযাপন করছেন। ঘনিষ্ঠজন ছাড়া বাইরের মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুবই সীমিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘ওয়ান-ইলেভেন’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়। সে সময়ের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে এখনো নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ওই সময়ের দুই প্রধান ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান ও জীবনযাপন নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন করে সামনে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাদের ভূমিকা, সিদ্ধান্ত এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের প্রভাব নিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ তাদের সময়কার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের আহ্বান জানাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ‘ওয়ান-ইলেভেন’ পরবর্তী সময়ে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, যা এই আলোচনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন ইউ আহমেদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হলেও তাদের প্রত্যক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বর্তমান জীবনযাপন ও অবস্থান নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল আরও বেড়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর