রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় চারটি প্লট থেকে জবাই করা ১২টি ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে ২৫টি জীবিত ঘোড়া এবং বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে পূর্বাচল উপশহরের ১০ নম্বর সেক্টরের ৩০৬ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর প্লটসহ আশপাশের আরও তিনটি প্লটে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র গোপনে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাটি উদঘাটন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গরুর মাংসের দাম বেশি হওয়ায় এই চক্রটি কম দামে ঘোড়ার মাংস সংগ্রহ করে সেটিকে গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করছিল। বর্তমানে যেখানে গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ঘোড়ার মাংস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনে প্রতারণার মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে ক্রেতারা অজান্তেই প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন জানান, একটি চক্র ৩৭টি ঘোড়া জবাইয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে আসে। এর মধ্যে ১২টি ঘোড়া ইতোমধ্যে জবাই করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১২টি জবাই করা ঘোড়া, ২৫টি জীবিত ঘোড়া এবং আগের জবাই করা ঘোড়ার বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ঘোড়াগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়েছে।
অভিযানের সময় একটি মাদী ঘোড়া ঘটনাস্থলেই একটি বাচ্চার জন্ম দেয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করে।
এদিকে, এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের ১ জুলাই একই এলাকায় ৫টি ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনা ঘটে। সে সময় উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে জবাইকৃত মাংস উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, পূর্বাচলে ঘোড়া জবাইয়ের এই ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।