শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত একটি বেসরকারী হাসপাতাল সীলগালা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে ওই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে নালিতাবাড়ী শহরের তারাগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকায় অবস্থিত মায়ান জেনারেল হাসপাতাল নামে প্রতিষ্ঠানটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এটি সীলগালা করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শাহীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন এবং ভারপ্রাপ্ত নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ন আহমেদ নূরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, নির্লব হাসান মিন্টু নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শহরের উত্তর বাজার এলাকায় একটি ভবন ভাড়া নিয়ে মায়ান জেনারেল হাসপাতাল পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে হাসপাতালটির কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছিল না। এরপরও সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ রোববার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় হাসপাতালটি তাৎক্ষণিকভাবে সীলগালা করা হয়।
এদিকে, গত শুক্রবার বিকেলে আকলিমা বেগম (৩৬) নামে এক প্রসূতিকে ওই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের কিছু সময় পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ময়মনসিংহের প্রান্ত এবং পরে নেক্সাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আকলিমা বেগমের পরিবারের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখে বলে জানা গেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অননুমোদিত হাসপাতাল জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তারা দ্রুত কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।