উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 56
রাজশাহীর পদ্মা নদীর ফেরিঘাটগুলোতে নৌকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে এবার সরাসরি নজর দিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশে রোববার সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে রাসিকের একটি প্রতিনিধি দল এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাসিকের সচিব সোহেল রানা নগরের আমীরপুর ফেরিঘাট ও বিষপুর ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি ফেরিঘাটের আওতাধীন বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং ইজারাদার, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফেরিঘাট এলাকায় টোল চার্ট দৃশ্যমান স্থানে না থাকায় তা দ্রুত টানানোর নির্দেশ দেন। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিদর্শন শেষে রাসিক সচিব সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসকের নির্দেশে ইজারাভুক্ত দুটি ফেরিঘাট পরিদর্শন করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হলেও সরেজমিনে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নদীর ওপারের চর মাঝারদিয়া ও খানপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নির্ধারিত টোল পরিশোধ করেই পারাপার করছেন বলে জানা গেছে।
তবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না হয় সে বিষয়ে ইজারাদারদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, পদ্মা নদীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু নৌকা রয়েছে, যেগুলো সিটি করপোরেশনের ইজারাভুক্ত নয়। এসব নৌযান ভ্রমণকারীদের নিয়ে চলাচল করে থাকে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রীরামপুর ট্যুরিস্ট ঘাট এলাকায় এসব নৌকার মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নৌকা মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ব্যক্তি মালিকানাধীন নৌযানগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
পরিদর্শনকালে রাসিকের সম্পত্তি কর্মকর্তা আবু নূর মো. মতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের আশা, এই নজরদারির ফলে ফেরিঘাট এলাকায় অনিয়ম কমবে এবং যাত্রীদের হয়রানি হ্রাস পাবে।