ঝালকাঠির রাজাপুরে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার ১৮ নম্বর কানুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন।
অভিযোগকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসী খানম বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, শিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান করেন না। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষিকাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভিভাবকরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখা ও বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দিক নির্দেশনার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের মতে, অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, “এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে তাকে অন্য একটি বিদ্যালয় থেকে এখানে ডেপুটেশনে আনা হয়েছিল। যদি এখানেও একই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রাথমিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত অভিভাবকরা জানিয়েছেন, শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা এবং বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলা অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন দ্রুত কাজ করে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, শিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সকলের জন্য অগ্রাধিকার।