নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন ভুট্টু, যিনি কয়েক বছর আগে ছিলেন একজন সাধারণ এসি মেকানিক, বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক ও প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। তার এই অস্বাভাবিক উত্থানকে ঘিরে নতুন করে উঠে এসেছে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের একাধিক অভিযোগ।
একসময় সিঙ্গার কোম্পানিতে এসি মেকানিক হিসেবে কাজ করা ভুট্টু অল্প সময়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেন। আদালতের সাবেক কর্মচারী মামুনুর রশিদ বাঁধনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত হন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্তত ১১ জনকে আদালতের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ভুট্টুর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও রয়েছেন।
নতুন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিদ হোসেনের সঙ্গে ভুট্টুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নওগাঁয় কর্মরত থাকাকালীন তানজিদ হোসেন একটি মামলায় জড়িয়ে পড়লে ভুট্টুর সহযোগিতায় তা নিষ্পত্তি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বিচারকের সঙ্গে ভুট্টুর সখ্যতার কারণে এই সুবিধা সম্ভব হয়।
সূত্র আরও জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, বিশেষ করে এসি সরবরাহ ও মেইনটেন্যান্স সংক্রান্ত কাজ নিয়মিতভাবে ভুট্টুকে দেওয়া হচ্ছে। নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে অধিক মুনাফা অর্জনের পর সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্য এক সূত্র জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ভুট্টুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ পাওয়া যায়। এছাড়া, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে ফেলতে এবং সাংবাদিকদের প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। কিছু সাংবাদিককে টাকা দিয়ে সংবাদ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিদ হোসেন। তিনি বলেন, “নওগাঁয় থাকাকালীন পরিচয়ের সূত্রে তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। এমনকি একবার বিমানে ভ্রমণের সময় একটি সেলফিও রয়েছে। তবে এর বাইরে কোনো আর্থিক বা অনৈতিক সম্পর্ক নেই।”
মনোয়ার হোসেন ভুট্টুও সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এসব তথ্য মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয়রা এবং সচেতন মহল বলছেন, একজন সাধারণ মেকানিক থেকে কোটি টাকার মালিক হওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য ও সরকারি টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার—এসব বিষয় গভীরভাবে তদন্তের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস ও টেন্ডার প্রক্রিয়া তদন্ত করলে একটি বৃহৎ দুর্নীতির সিন্ডিকেটের চিত্র উন্মোচিত হতে পারে।