হবিগঞ্জের বাহুবলে জাল নোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট-এর আয়োজনে এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বাহুবল শাখার সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ গ্রাহকসহ নানা শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিন্সিপাল অফিস, হবিগঞ্জ-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) জনাব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জাল নোট দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি। এটি শুধু আর্থিক লেনদেনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে না, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট-এর যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) জনাব রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক জনাব তানভীর আহমেদ ও জনাব শুভাশীষ পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জনাব ফিরোজ আলী এবং বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনাব সালেহ আহমেদ আবিদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বাহুবল শাখার ম্যানেজার (এসপিও) জনাব ইব্রাহিম খলিল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাল নোট শনাক্তে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করলে এই অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জাল নোট একটি গুরুতর আর্থিক অপরাধ, যা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এ সমস্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তারা লেনদেনের সময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি জাল নোট শনাক্ত করার কৌশল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং জাল নোট শনাক্তের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের কর্মশালাকে সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও জাল নোট প্রতিরোধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই জাল নোট শনাক্ত করতে পারে এবং প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়।