ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

সাতক্ষীরায় তেলের তীব্র সংকট, কালোবাজারে দৌরাত্ম্য


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৩৮ পিএম

সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। যদিও সরকারিভাবে তেলের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে, বাস্তবে জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কালোবাজারি চক্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের চালতেতলা ও সুলতানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খোলা বাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি করছেন। জেলার তালা উপজেলার খলিশখালী, মুড়াগাছা ও সুজননগর এলাকায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। কলারোয়ার চন্দনপুর, জয়নগর ও কেরালকাতায়ও খোলা বাজারে তেলের দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে কালিগঞ্জ উপজেলায়। নলতা, বিষ্ণুপুর ও রতনপুর বাজারে প্রতি লিটার তেল ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতে পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন।

সম্প্রতি কালিগঞ্জের পারুলগাছা এলাকায় ‘আল মদিনা ট্রেডার্স’ থেকে ৫৮০০ লিটার অবৈধ তেল জব্দ করা হয়। পরে তা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এই ঘটনার পরও কালোবাজারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আশাশুনির মহিষকুড় ও হাড়িভাঙা এলাকা এবং শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ও বংশীপুর বাজারেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা জানান, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, তবে চড়া দামে।

অভিযোগ উঠেছে, খুলনা ডিপো থেকে তেল আসার পর কিছু পাম্প মালিক গোপনে ড্রামভর্তি করে তেল সরিয়ে ফেলছেন। ফলে পাম্পে সাধারণ মানুষ তেল না পেলেও, সেই তেল খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যাচ্ছে। এসব ব্যবসায়ীরা পরে অতিরিক্ত দামে বাজারে বিক্রি করছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালক পাম্প থেকে ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল সংগ্রহ করছেন এবং পরে তা খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে করে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর