ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

এক দশকে বাংলাদেশ থেকে ৬৮৩০ কোটি ডলার পাচার


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৭:২২ পিএম

বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের চিত্র উঠে এসেছে মার্কিন সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিবেদনে। জিএফআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮.৩০ বিলিয়ন ডলার (৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার) অর্থ পাচার হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এর পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬.৮৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৮৩ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, যা দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান। মূলত আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা ঘোষণা বা মূল্য কারসাজির মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে সরানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে আরও বড় চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার (২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার) অর্থ পাচার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা সম্পৃক্ত।

জিএফআই জানায়, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল এশিয়ার এমন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে অর্থ পাচারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পাচার হওয়া অর্থের বড় অংশ উন্নত দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। এতে দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ দুর্বল হচ্ছে, কর আদায় কমছে এবং জনসেবা ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) দেখিয়েছে, মোট পাচারের প্রায় ৭৫ শতাংশই বাণিজ্যের মাধ্যমে হচ্ছে। আমদানি ও রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন সংশোধনের পর চিহ্নিত ৯৫টি বাণিজ্য চ্যানেল ব্যবহার করে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার মোট পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাণিজ্য চ্যানেলের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সহজে স্থানান্তর সম্ভব। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে, যা জিডিপির ৩.৪ শতাংশের সমান। বিশেষ করে বস্ত্র, ভোগ্যপণ্য এবং জ্বালানি আমদানি ক্ষেত্রে এই অনিয়ম বেশি।

প্রতিবেদনগুলোর সুপারিশে বলা হয়েছে, শুল্ক ব্যবস্থাপনা জোরদার, আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর