ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

শতকোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

ক্রেতা সংকটে আমতলীতে তরমুজ নিয়ে বিপাকে চাষিরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৭:৪১ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

আমতলীর চাষিরা এ বছর তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বাম্পার ফলন হলেও ক্রেতার অভাবে তারা উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন না। এতে করে চাষিদের অন্তত শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

জানা গেছে, চলতি বছরে আমতলীতে ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু চাষিরা লক্ষ্য অতিক্রম করে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার হয়েছে। এর ফলে যদি দাম ও বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকতো, অন্তত ২৭০ কোটি টাকার বিক্রির আশা ছিল।

তবে মৌসুম শুরু থেকেই তরমুজ বিক্রিতে বড় ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। চাষিরা স্থানীয় বাজারে বিক্রির চেষ্টা করছেন, কিন্তু আমতলী, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত তরমুজ অবশিষ্ট থাকবে। গত বছর বড় ব্যবসায়ীরা উত্তারাঞ্চলে তরমুজ রপ্তানি করলেও এ বছর চাহিদা কম থাকায় তারা ক্রয় করছেন না।

হলদিয়া, চাওড়া, আঠারোগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষিরা জানিয়েছেন, তারা বড় ক্রেতার অভাবে খেত থেকে তরমুজ তুলতে পারছেন না। অনেকেই তরমুজ কেটে রেখেছেন, কিন্তু বিক্রি করতে পারছেন না।


হলদিয়া গ্রামের আল আমিন বলেন, তিনি তিন হেক্টর জমিতে ৫ লাখ টাকায় তরমুজ চাষ করেছেন। তবে ক্রেতা না থাকায় লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকা তুলতেও হিমশিম খেতে হবে। চাওড়া ইউনিয়নের মামুন মোল্লা জানিয়েছেন, ১২ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করার পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

চিলা ইউনিয়নের সিদ্দিকুর রহমান ও আলম, গুলিশাখালী ইউনিয়নের শাহিন সিকদার ও সবুজ খাঁনও একই সমস্যার কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, পাইকার না থাকায় স্থানীয় বাজারে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের বেতনও জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও দাম কম থাকার কারণে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাবেন না। তিনি জানিয়েছেন, বড় ব্যবসায়ীদের তরমুজ ক্রয় করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীর চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভালো দামে তরমুজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, যদি বাজার পরিস্থিতি দ্রুত ঠিক না হয়, তবে এই বাম্পার ফলনের ফলে শত কোটি টাকার ক্ষতি হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর