ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

শতকোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

ক্রেতা সংকটে আমতলীতে তরমুজ নিয়ে বিপাকে চাষিরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৭:৪১ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

আমতলীর চাষিরা এ বছর তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বাম্পার ফলন হলেও ক্রেতার অভাবে তারা উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন না। এতে করে চাষিদের অন্তত শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

জানা গেছে, চলতি বছরে আমতলীতে ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু চাষিরা লক্ষ্য অতিক্রম করে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার হয়েছে। এর ফলে যদি দাম ও বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকতো, অন্তত ২৭০ কোটি টাকার বিক্রির আশা ছিল।

তবে মৌসুম শুরু থেকেই তরমুজ বিক্রিতে বড় ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। চাষিরা স্থানীয় বাজারে বিক্রির চেষ্টা করছেন, কিন্তু আমতলী, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত তরমুজ অবশিষ্ট থাকবে। গত বছর বড় ব্যবসায়ীরা উত্তারাঞ্চলে তরমুজ রপ্তানি করলেও এ বছর চাহিদা কম থাকায় তারা ক্রয় করছেন না।

হলদিয়া, চাওড়া, আঠারোগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষিরা জানিয়েছেন, তারা বড় ক্রেতার অভাবে খেত থেকে তরমুজ তুলতে পারছেন না। অনেকেই তরমুজ কেটে রেখেছেন, কিন্তু বিক্রি করতে পারছেন না।


হলদিয়া গ্রামের আল আমিন বলেন, তিনি তিন হেক্টর জমিতে ৫ লাখ টাকায় তরমুজ চাষ করেছেন। তবে ক্রেতা না থাকায় লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকা তুলতেও হিমশিম খেতে হবে। চাওড়া ইউনিয়নের মামুন মোল্লা জানিয়েছেন, ১২ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করার পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

চিলা ইউনিয়নের সিদ্দিকুর রহমান ও আলম, গুলিশাখালী ইউনিয়নের শাহিন সিকদার ও সবুজ খাঁনও একই সমস্যার কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, পাইকার না থাকায় স্থানীয় বাজারে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের বেতনও জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও দাম কম থাকার কারণে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাবেন না। তিনি জানিয়েছেন, বড় ব্যবসায়ীদের তরমুজ ক্রয় করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীর চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভালো দামে তরমুজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, যদি বাজার পরিস্থিতি দ্রুত ঠিক না হয়, তবে এই বাম্পার ফলনের ফলে শত কোটি টাকার ক্ষতি হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর