জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা বাতিলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার সফর নিয়ে যে সংবাদটি ছড়িয়েছে, তা বিদেশি একটি প্রতিবেদনের ভুল এবং বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা। ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্যকে দায়ী করা সম্পূর্ণ অসত্য, কারণ এখনো পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়াতে কোনো বক্তব্যই দেননি।
আজহারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির আমন্ত্রণে গত ৫ দিন ধরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমার সফর নিয়ে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। ভিসা বাতিলের পেছনে কোনো সাম্প্রতিক বক্তব্য দায়ী নয়। সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য বিষয়টি সহজেই যাচাইযোগ্য।”
আজহারী বলেন, তার বক্তব্য নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা পূর্ববর্তী যুক্তরাজ্য সফরের সঙ্গে তুলনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, “বিভিন্ন দেশে বক্তাদের সফর ঘিরে চাপ বা প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয়। আমার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল এবং নাস্তিক্যবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে পুরনো, বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে তুলে এনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে।” তিনি বলেন, একই ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যেও বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।
নিজেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষের একজন হিসেবে উল্লেখ করে আজহারী বলেন, “আমি সর্বদা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষেই আছি। আমার বহু আলোচনাতেও এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে। আমি কখনোই সহিংসতা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিইনি।”
তিনি সাংবাদিকদের অবহিত করেন, ভিসা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি এবং প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে দেখলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। আজহারী আশ্বাস দেন, তার সফরের উদ্দেশ্য ধর্মীয় ও সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে মানুষের মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচার করা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদেশি প্রতিবেদনের ভুল ব্যাখ্যা বা প্রভাবশীল মহলের চাপ প্রায়ই এই ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। তারা বলেন, সঠিক তথ্য যাচাই করা এবং প্রেক্ষাপট বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
আজহারীর এই বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বিতর্ককে স্পষ্ট করে এবং তার শান্তিপ্রিয় অবস্থানকে শক্তিশালী করে। তিনি সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, শান্তি, সহাবস্থান এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই তার আলোচনার মূল বিষয়।