ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

রাবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, পাঁচদিন ছুটির দাবি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:২৯ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। দাবিগুলোতে রয়েছে বৈ-সা-বি, চাংক্রান, বিষুয়া ও চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব উদযাপন উপলক্ষে পাঁচদিনের ছুটি ঘোষণা, বাহা, কারাম, সোহরাই উৎসব উপলক্ষে ক্লাস ও সকল প্রকার পরীক্ষা শিথিল করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের বিভিন্ন জাতিসত্তার উৎসব উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগীতা নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শাখা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মন সংগঠন ও বাংলাদেশ মুন্ডা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার সহ-সভাপতি রিসার্চ চাকমা বলেন, “দেশে প্রায় ৪৯টি জাতিসত্তা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালীরা তাদের উৎসব উদযাপনে সুবিধা পায়, কিন্তু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা সমান সুযোগ পাচ্ছে না। আমরা চাই সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে আমাদের উৎসবের দিনগুলো ছুটির তালিকায় যুক্ত হোক এবং প্রতিবছর তা নিশ্চিত হোক।”

আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শীত কুমার উরাং বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা, উৎসব, ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে। মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছে, কিন্তু আমরা আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব পালন করতে পারি না। আমাদের দাবী, সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উৎসব উদযাপনের সুযোগও নিশ্চিত করা হোক।”

মানববন্ধনে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল ও শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ বক্তব্য প্রদান করেন। ফুয়াদ রাতুল বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পরও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসব স্বীকৃতি পাচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তাদের উৎসব উদযাপনের জন্য ছুটি নেই। স্বতন্ত্র সংস্কৃতি উদযাপনে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে।”

আল শাহরিয়া শুভ বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম ও আদিবাসী সবাই মিলে দেশ গড়ি। কিন্তু আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য এখনও ছুটির দাবি করতে হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।”

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং সকল আদিবাসী শিক্ষার্থীর জন্য উৎসব উদযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর