ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। এই হামলা জল, স্থল ও আকাশপথে একযোগে পরিচালিত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র গুদাম এবং অন্যান্য অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি নৌবাহিনী হিজবুল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের গুদামে হামলা চালায়। এই হামলায় অনেক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জান ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহ সেলের উপস্থিতি শনাক্ত করে তাদের উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এই সমন্বিত অভিযান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হিজবুল্লাহর অন্তত ৪০ সদস্যকে হত্যা করেছে। হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর রকেট, অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সামগ্রী ধ্বংস করা। সামরিক সূত্রের মতে, এই অভিযান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ক্ষুণ্ণ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম বন্ধ করার লক্ষ্য এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া, ইসরায়েলি পক্ষের দাবি, এই অভিযান পূর্ব পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ছিল, যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি সম্ভব হলে সর্বনিম্নে আনা যায়।
উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিদ্যমান। লেবাননে হামলার ফলে এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষা নীতির অংশ।
এই ঘটনার পর সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের এই অভিযান লেবাননে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও হামলার প্রভাব এবং লেবাননের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপ্তি এখনও পরিপূর্ণভাবে জানা যায়নি।
আকাশজমিন / আরআর