ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারী টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার সুলতানা ইয়েমেনের মারিবে হুথিদের অস্ত্রের গুদামে বিমান হামলা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সাহায্য চান এলজিআরডি মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১ ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের পরিমাণ কত? সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:১৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেলবাজারে পড়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


শুক্রবার সৌদি আরব জানায়, ইরাকের ভেতর থেকে চালানো ড্রোন হামলায় পাইপলাইনে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনে কিছু ক্ষতি হয়েছে।


হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর দিকে সন্দেহের আঙুল তুলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এ অভিযোগ ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে।


ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের বন্দর ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত। যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরীয় রুট এড়িয়ে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল পরিবহনে পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের সোমবারের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাজার থেকে সাময়িকভাবে সরতে পারে।


পাইপলাইনটি কতদিন বন্ধ থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মেরামতের সময় বিবেচনায় এটি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি ইতোমধ্যে চাপের মধ্যে থাকা বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।


এর আগে গত সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির মুখে অবস্থিত পেরিম দ্বীপ দখল করে। কয়েক মাস ধরে বাব আল-মান্দাব প্রণালি হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি তেল ও পরিশোধিত পণ্য রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।


লোহিত সাগরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়া এবং ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের বিকল্প পথগুলো সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০৩ ডলারে উঠেছে।


র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সহপ্রতিষ্ঠাতা বব ম্যাকন্যালি বলেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দ্রুত মেরামত করে চালু করা না গেলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। তাঁর মতে, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।


যুদ্ধের মধ্যেও বৈশ্বিক তেলবাজার এখন পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু তেল সরবরাহ অব্যাহত আছে, কয়েকটি দেশ উৎপাদন বাড়িয়েছে এবং অনেক দেশ কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদাও কিছুটা কমেছে।


তবে এই স্থিতিশীলতার পেছনে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় পাইপলাইনটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করেছে। এর পূর্ণ সক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল।


পাইপলাইনটির দুটি প্রধান ব্যবহার রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য পরিবহন করা হয়, অন্যদিকে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়। এসব শোধনাগার থেকে ডিজেলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত তেলপণ্য রপ্তানি করা হয়।


এনার্জি অ্যাসপেক্টসের রিচার্ড ব্রোঞ্জ মনে করেন, পরিশোধিত তেলের বাজারে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। কারণ এ বাজার তুলনামূলকভাবে ছোট এবং ইউক্রেনের রুশ শোধনাগারে হামলার কারণে সরবরাহও ইতোমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে এএএ। লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপো সোমবারের এক নোটে সতর্ক করেছেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬.৫০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে।


ইয়ানবুতে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেপলারের সিনিয়র ক্রুড অ্যানালিস্ট জোহানেস রাউবাল। গড়ে যে হারে তেল মজুত থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে, তাতে প্রায় চার দিনের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে পাইপলাইনে প্রায় এক মাস সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


রিস্ট্যাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, এক মাস পাইপলাইন বন্ধ থাকলে বাজার থেকে ১২ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল রপ্তানি কমে যেতে পারে। এতে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রিস্ট্যাডের কমোডিটি মার্কেটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যানিভ শাহও মনে করেন, ইয়ানবুর মজুত পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে।


তবে এনার্জি অ্যাসপেক্টসের রিচার্ড ব্রোঞ্জের প্রত্যাশা, মেরামতের কাজ চলার মধ্যেই সৌদি আরব পাইপলাইনের কিছু অংশ দিয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু করতে সক্ষম হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর