ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি–টোয়েন্টি সংস্করণের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ক্রিকেটার বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন। সেখানে অবস্থানকালেই একটি খুদেবার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের এই গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে অবহিত করা হয়েছে।
হঠাৎ করে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের অধিনায়কত্ব থেকে নিগার সুলতানার সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা জাতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে এক গভীর ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামনে যখন নারী দলের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট সূচিতে রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর এই সিদ্ধান্তের খবর বিসিবি কর্মকর্তা এবং সমর্থক মহলে বেশ চমকপ্রদ একটি বার্তা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে বাংলাদেশ নারী দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই তারকা ক্রিকেটার কেন হঠাৎ এই পদ থেকে সরে যেতে চাইলেন, তা নিয়ে দেশের ক্রীড়ামোদী ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে নিগার সুলতানার পাঠানো বার্তার বিষয়ে বিসিবির নারী উইং এখনো নিজেদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেনি। নিগারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছুই জানেন না। রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র বা নিশ্চিত তথ্য এখনো তাঁর দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। যার কারণে তিনি এখনই এ বিষয়ে কোনো বিশদ মন্তব্য করতে চাননি। তবে ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক নীতিনির্ধারক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি পর্যালোচনার পর বিসিবির পক্ষ থেকে মূল অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
নিগার সুলতানা শুধু বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কই নন, বরং অধিনায়কত্বের পাশাপাশি দলের প্রধান ব্যাটার ও উইকেটরক্ষকের ভূমিকা পালনে তিনি ছিলেন এক অনন্য স্তম্ভ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বাংলাদেশের নারী দলের অর্জিত বহু বড় সাফল্য ও গৌরবের সঙ্গে তাঁর নাম এবং অধিনায়কত্ব সরাসরি যুক্ত রয়েছে। তাঁর সময়োপযোগী নির্দেশনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারী দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পারফরম্যান্সকে সুদৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা এবং মাঠের কঠিন মুহূর্তে সতীর্থদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিনিয়ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অধিনায়কত্বের সার্বক্ষণিক বাড়তি চাপ কমিয়ে মাঠে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হয়তো নিগার এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দল পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মূল ব্যাটার হিসেবে রান তোলা ও উইকেটের পেছনের ভূমিকা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন ও মানসিক চাপযুক্ত। ফলে নিজের ব্যাটিং শৈলী ও ফিটনেস আরও উঁচুতে নিয়ে গিয়ে দলকে দীর্ঘমেয়াদে সার্ভিস দেওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বের ভার ছেড়ে দিয়ে শুধু একজন নিবেদিত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নিজের অবদান বাড়াতে চাইছেন।
সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে নিগার সুলতানা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলে বিসিবিকে দ্রুত নতুন কোনো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দল পরিচালনার গুরুদায়িত্ব দিতে হবে। কেননা সামনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অপেক্ষা করছে, যেখানে দলগত শৃঙ্খলা ও সমন্বয় ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের মধ্য থেকে বিসিবি নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করতে পারে। তবে অধিনায়ক পদে পরিবর্তন এলেও নিগার সুলতানা দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে মাঠ ও মাঠের বাইরে নতুন অধিনায়ক ও দলকে অব্যাহতভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জাপান সফর বা অবস্থান শেষ করে নিগার সুলতানা দেশে ফেরার পর তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিশদ কথা বলতে পারেন। ততোদিন পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহল বিসিবির তরফ থেকে আসা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নজর রাখছে।
আকাশজমিন / আরআর