মিজানুর রহমান বাদল, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বারো মাসি শসা চাষে স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নিম্নমানের বীজ ও কম ফলনকে তারা মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। খরচ তুলতে না পারায় কৃষকরা হতাশায় রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় সবজি চাষের উপযোগী জমি রয়েছে, কিন্তু বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচসহ বারো মাসি শসা চাষের খরচ অনেক বেড়েছে। ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শসা আবাদ হলেও প্রত্যাশিত ফলন হয়নি। অনেক চাষি তাদের শসা বিক্রি করতে পারেননি। যারা বিক্রি করেছেন, তাদের কম ফলনের কারণে বাজারদরে তেমন অর্থ আয় হয়নি। ফলে উৎপাদনের খরচও উঠছে না।
সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের চাষি রাজিব মোল্লা বলেন, “সিংগাইর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডার থেকে বারোমাসি লালতীর জাতের বীজ নিয়ে ৪০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু গাছ মাচায় ওঠার পরই হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। কোনো শসা বিক্রি করতে পারিনি।”
মিনাজ উদ্দিন বলেন, “৫২ শতাংশ জমিতে শসা চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকার শসা বিক্রি হয়েছে। ফলন কম হওয়ায় গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সফিকুল ইসলাম জানান, অনলাইন থেকে হোয়াইট গোল্ড বীজ নিয়ে ২৬ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। গাছ ভালো থাকলেও ফলন কম হওয়ায় খরচের অর্ধেকও উঠছে না। জয়মন্টপ ইউনিয়নের বাহাদিয়া গ্রামের তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ১ বিঘা জমি থেকে মাত্র ১২’শ টাকার শসা বিক্রি করতে পেরেছেন।
কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, নিম্নমানের বীজের কারণে ফলন মারাত্মকভাবে কমেছে। চটকদার প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে তারা বীজ কিনেছেন, কিন্তু বিক্রেতারা দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা কম মানের বীজ বিক্রি চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মানসম্মত বীজ সরবরাহ এবং প্রণোদনা সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, “আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ফলন কম হতে পারে। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে।”
এতে স্পষ্ট হচ্ছে, সিংগাইরে বারো মাসি শসা চাষে কৃষকেরা শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখে নয়, মানসম্মত বীজ ও সরকারি সহায়তার জন্যও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
আকাশজমিন / আরআর