ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

গাড়ি কেনায় সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ বন্ধ


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:১০ পিএম

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোরও নির্দেশনা এসেছে, যা সরকারি ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠক নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি ব্যয় কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা স্থগিত করা।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারি ব্যয়ের চাপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য যে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হতো, তা আপাতত বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগও স্থগিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বাইরে অন্যান্য ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। পাশাপাশি সেমিনার ও কনফারেন্স সংক্রান্ত ব্যয় ২০ শতাংশ এবং সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কারণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করলে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা—বিশেষ করে উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তারা—সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি ক্রয়ের সুযোগ পেতেন। ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হতো।

এই নীতিমালার আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই পেতেন না, বরং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পেতেন। পাশাপাশি গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য ছিল। ফলে এই সুবিধা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হতো।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এই সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করে ব্যয় কমানোর দিকে জোর দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। একইসঙ্গে এটি সরকারি খাতে ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিদেশে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। এই ব্যয় কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে দক্ষতা উন্নয়নের দিকে জোর দিলে তা আরও কার্যকর হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নতুন করে গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন বা বিদেশে প্রশিক্ষণে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে পুনরায় এসব সুবিধা চালু করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ব্যয়সংকোচনের একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি ব্যয় কমানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর