সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 110
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি পাট বীজ আত্মসাতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৩০ প্যাকেট পাট বীজ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে আটক করা হয় দুইজনকে, যারা ওই বীজ অবৈধভাবে মজুত ও বিক্রির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কাজিপুর উপজেলার চরবুরুঙ্গী-তেকানি গ্রামের কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম এবং ভানুডাঙ্গা-চালিতাডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. গোলাই। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি পাট বীজ গোপনে সংরক্ষণ করে বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বিতরণের জন্য আসা এসব পাট বীজ কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অসাধু চক্রের মাধ্যমে তা বাজারজাত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে চরপানাগাড়ি বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেখানে ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, সরকারি সম্পদ আত্মসাত ও কৃষকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে উভয়কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, তারা সময়মতো বীজ না পাওয়ায় চাষাবাদে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
একজন কৃষক বলেন, “সরকার আমাদের জন্য বীজ দেয়, কিন্তু আমরা তা পাই না। মাঝখানে কিছু অসাধু লোক তা নিয়ে ব্যবসা করে। এতে আমাদের ক্ষতি হয়।” অন্য একজন কৃষক জানান, “যদি প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।”
এদিকে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বীজ বিতরণ নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে যারা এই ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ না হলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং কৃষকের আস্থা নষ্ট হয়। তাই এ ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, কাজিপুরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, মাঠপর্যায়ে সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনিক তৎপরতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ঘটনার পর থেকে বীজ বিতরণ প্রক্রিয়ায় আরও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।