শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। ভোট গ্রহণের দিন ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নির্বাচনী জনসভা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদুর রহমানের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি ভোটারদের সচেতন হয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ন্যায়বিচার ও ইনসাফের প্রতীক—এই প্রতীকের পক্ষে গণসমর্থন গড়ে তুলতে হবে।”
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, “বর্তমান তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চায়। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অবিচারের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আগামী ৯ এপ্রিলের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখুন।”
জনসভায় কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক ইস্যু তুলে ধরে আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয়দের মধ্যে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় উৎসাহ-উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হলে আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এ আসনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের আলহাজ্ব মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মাকসবাদী)-এর প্রার্থী মিজানুর রহমান নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনের মোট ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১২৮টি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এসব ভোটারই আগামী ৯ এপ্রিল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে এবং ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারণা আরও জোরদার হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।