ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ৭ জন জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতের এই অভিযানে নগদ টাকা, তাস ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফরদাবাদ গ্রামের অলি মিয়ার বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ঘরের ভেতরে একটি সক্রিয় জুয়ার আসর চলছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতেনাতে জুয়া খেলার সময় ৭ জনকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা, জুয়া খেলার জন্য ব্যবহৃত দুই বান্ডিল তাস এবং ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—জসিম (২৮), তৌহিদ মিয়া (৩৮), আলম মিয়া (৪০), মানিক মিয়া (২৭), আশিক মিয়া (২৫), জিয়াউর রহমান (৩৫) এবং মহিউদ্দিন (৪৮)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গোপনে জুয়ার আসর বসছে—এমন অভিযোগ ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নজরদারি বাড়ানো হয় এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
এ বিষয়ে ইয়াসিন মিয়া, বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও জুয়ার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে জুয়া খেলার প্রবণতা ছিল, যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। পুলিশি অভিযানের ফলে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুয়া সামাজিক অপরাধ হিসেবে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতাও সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান জরুরি।
সব মিলিয়ে, বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনের ভূমিকার প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর