রাজধানীর কেরানিগঞ্জের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে এই আগুন ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, শনিবার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করা হয়।
আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় একে একে মোট সাতটি ইউনিট কাজে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, “দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ইউনিটগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধার ও আহতদের সহায়তা প্রদান করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কারখানায় কাজ চলাকালীন বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা গ্যাস লাইটারের সঙ্গে সংযোগিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের তীব্রতা ও বিস্তার রোধে নিকটবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো দ্রুত কাজ করায় সংলগ্ন অন্যান্য কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকাজ শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনা তদন্তে নেমেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই চরম আতঙ্কে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণে বড় ধ্বংসরোধ সম্ভব হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার মালিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
আকাশজমিন / আরআর