সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 55
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বহুল আলোচিত এক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও দল থেকে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিন নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের পর সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ মার্চ চাঁদরাতের সন্ধ্যায় ঈদ সালামির প্রলোভন দেখিয়ে কায়েমপুর ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানাকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন ঈদের দিন দুপুরে মুরুটিয়া-চিনাধুকুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মা রুবি খাতুন বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই মামলায় রবিউল ইসলাম নামে এক সিএনজিচালক ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং মামলার আসামি হওয়ায় গত ২৫ মার্চ জেলা বিএনপি সাইফুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত অন্যদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হবে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মামলার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি চাপ তৈরি করছেন।
শাহজাদপুর থানার ওসি আরও বলেন, “আমরা হত্যা মামলার তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার সুযোগ কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অপরিহার্য। তারা আশা করছেন, গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তার ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে।
এই মামলায় গ্রেফতারির ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের সক্ষমতা প্রমাণিত হলো। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও আসামিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর