ক্রীড়া ডেস্ক
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠন করা পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার পর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শনিবার কমিটির সদস্যরা একে একে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আজ রোববার এনএসসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান বলেন, “কাউকে অভিযুক্ত করার উদ্দেশ্য নয়। আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রস্তুত করেছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছিল, কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি।”
গত ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কি না তা যাচাই করা। যদিও কমিটির জন্য ১৫ কার্যদিবসের সময় নির্ধারিত ছিল, তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
একেএম আসাদুজ্জামান আরও বলেন, “আমরা আমাদের সুপারিশগুলো প্রতিবেদনেই অন্তর্ভুক্ত করেছি। বিশেষ করে সম্পর্কগুলো আরও সুন্দর করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে ভুল বা বিচ্যুতি রয়েছে তা কীভাবে সংশোধন করা যায়—এ বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছি। নির্বাচনের অন্যান্য সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত না হলেও লিখিতভাবে আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। প্রতিবেদন পাঠালে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।”
প্রসঙ্গত, বিসিবির নির্বাচনের সময় তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। একই কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়নি। নতুন জাতীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের পর ক্রীড়া সংগঠকরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনএসসির কাছে অভিযোগ জানান।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সুষ্ঠু হয়নি। তবে কমিটি বিভিন্ন সমস্যা ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করে সংশোধনের সুপারিশ দিয়েছে। এতে বোর্ডের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বপূর্ণ আচরণ ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিসিবির ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং সম্পর্কগুলো দৃঢ় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কমিটি আশা করছে যে তাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বিসিবির কার্যক্রম এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বিষয়টি বিশ্লেষণ করবেন। তবে আসিফ মাহমুদ সজীবের অনুপস্থিতি নির্বাচন সম্পর্কিত তথ্য যাচাইয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। এভাবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।