উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 65
রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে করে রাজশাহী অঞ্চলে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত একদিনে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেরই উচ্চ জ্বর, শরীরে লাল ফুসকুড়ি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যা হাম রোগের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ জন রোগী। তবে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এখনও বেশি রয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৩ জন রোগী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি সময়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫২ জন রোগী হামের লক্ষণ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে দুঃখজনকভাবে এই সময়ের মধ্যে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সাসপেক্টেড হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই নিয়মিত টিকা গ্রহণ করেনি বা টিকার সময়সূচি পূর্ণ হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি দ্রুত একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শিশুদের নিরাপত্তার জন্য টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য পরিবার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা জোরদার করেছে এবং আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
আকাশজমিন
/ আরআর