ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ

সময় চাইলেও সুযোগ পেলেন না বিরোধীদলীয় নেতা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:৩৭ পিএম

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই বহাল থাকছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

সংসদে বিলটি উত্থাপনের আগে এবং পরে একাধিক প্রক্রিয়াগত ধাপ অনুসরণ করা হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি। কারণ, দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়নি। ফলে বিলটি প্রায় বিনা বিতর্কেই পাস হয়ে যায়।

এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সত্তা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা শোনা গেলেও সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী বিলে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাস হয়েছে।

বুধবার সকালের অধিবেশনে দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের জন্য ফ্লোর দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বিলটি উত্থাপন করেন এবং পরে স্পিকারের আহ্বানে সেটি পুনরায় বিবেচনার জন্য তোলেন।

তবে বিলটি পাসের শেষ পর্যায়ে এসে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর চান। স্পিকারের অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট আমরা ৩-৪ মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এটি পুরোপুরি পড়া সম্ভব হয়নি। আইনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা কি বিলটি পাসের আগে কিছু সময় পেতে পারি?’

এর জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য সংসদীয় বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সেই নির্ধারিত সময়ে আপত্তি জানানো হলে তা বিবেচনা করা যেত। তবে বিল পাসের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে আর কোনো আপত্তি গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা এই শিটটি খুব অল্প সময় আগে পেয়েছি।’

এর জবাবে স্পিকার বলেন, ‘যা হোক, বিষয়টি আমরা ভবিষ্যতে বিবেচনা করতে পারি। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে আর কোনো সুযোগ নেই।’ এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য ফ্লোর দেন।

ফ্লোর পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘এই বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার জন্য আনা সংশোধনী। আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় মনে থাকার কথা, তারা এবং এনসিপির নেতারা একসময় একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দেশে একটি জনমত সৃষ্টি হয়। সেই জনমতের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসংক্রান্ত বিধান শক্তিশালী করতে আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি দ্বিতীয় পাঠের সময় সংশোধনী প্রস্তাব আনা হতো বা প্রথম পাঠের পর আপত্তি জানানো হতো, তাহলে এ বিষয়ে আলোচনা করা যেত। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই।’

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে রুলিং দিয়েছি। এখন বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুধু জাতির কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছি। জাতি পরিষ্কার আছে, আমরাই মাঝে মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করি। যাই হোক, মাননীয় স্পিকারকে ধন্যবাদ এবং মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।’ এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তা গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধন আনে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এই আইনের মাধ্যমে কার্যত একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পথ সুগম করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আইনগতভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংসদে প্রায় বিনা আলোচনায় বিলটি পাস হওয়ায় বিরোধীদলীয় অংশ থেকে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে, এটি জনমতের প্রতিফলন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সম্পন্ন হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর