সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর এম এ সাত্তার মেমোরিয়াল কলেজে ডননেশন, জামানত ও ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অডিও ফোন রেকর্ড ও ভিডিও পোস্ট করে নিন্দার ঝড় বইছে। এদিকে অধ্যক্ষের ঘুষের দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় চাকরিচ্যুত করেছেন কলেজের কম্পিউটার ল্যাব সহকারী মুস্তাক আহমেদকে। এমন অভিযোগ করেছেন মুস্তাক আহমেদ।
জানা যায়, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের জাস ফাউন্ডেশন কতৃক পরিচালিত এম এ সাত্তার মেমোরিয়াল কলেজটি ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারী স্থাপনের অনুমতি পায় কলেজটি। এরপর একই বছরের এপ্রিলের ২৫ তারিখ পাঠদানের অনুমোদন পায় এম এ সাত্তার মেমোরিয়াল কলেজ। এদিকে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন আবদুস ছামাদ। যোগদানের পর থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন এই অধ্যক্ষ। পূর্বের অধ্যক্ষ কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগপত্রে ভুল আছে সংশোধন করতে হবে বলে সকল নিয়োগপত্র নিয়ে নেন অধ্যক্ষ আবদুস ছামাদ। যা অদ্যবদি শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। কলেজে যোগদানের পর থেকেই কলেজ পরিচালনা কমিটি ও জাস ফাউন্ডেশনের পরিচালনা কমিটির অগোচরে নানা দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নিজের পকেট ভরার জন্য শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে ল্যাবটপ কেনা বা অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার কথা বলে চান ডনেশন বা জামানতের নামে ঘুষ চায় অধ্যক্ষ আবদুস ছামাদ।
অনুদান দিলে মেলে প্রভাষক থেকে শুরু করে অফিসের যে কোন পদে চাকরি। অধ্যক্ষ আবদুস ছামাদ বিভিন্ন পদে চাকরি দিয়ে কলেজের ফেসবুক পেইজে পূর্বের কোন তারিখে করা পোষ্ট সড়িয়ে সেখানে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ পোষ্ট করেন। নতুন চাকরি দিলেও সেটাকে পুরনো তারিখে যোগদানও দেখান অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ।
পোগলদিঘা ইউনিয়নের মোনার পাড়া গ্রামের আহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে দেলোয়ার হোসেন এম এ সাত্তার মেমোরিয়াল কলেজের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক পদে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিকসহ সকল পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়। পরে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস ছামাদ আমাকে ও আমার ছেলেকে কলেজে ডেকে নিয়ে ডনেশনের নামে ৩ লক্ষ টাকা দাবী করেন। দাবীকৃত ৩ লক্ষ টাকা দিতে না পারায় দেলোয়ার হোসেনকে চাকরিতে নেয়া হয়নি। চাকরির বিষয়ে পরে আরও ৩/৪ দিন কলেজে গিয়েও আমার ছেলের চাকরি হয়নি।
এদিকে ২ লক্ষ টাকার চুক্তিতে চাকরি হয় স্থানীয় সোজা উদ্দিনের ছেলে মুস্তাক আহমেদ এর। চাকরির এক বছর পার হলেও নিয়োগ পত্র না দেয়ায় চাপ দেন মুস্তাক আহমেদ। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ আবদুস ছামাদের দাবীকৃত ২ লক্ষ টাকা না দিতে পারায় তাকে প্রথমে অফিস প্রধানের পদ থেকে সড়িয়ে কম্পিউটার অপারেটর পদে দেন আবদুস ছামাদ। এরপরও টাকা না দেয়ায় আবারও তাকে কম্পিউটার অপারেটর থেকে সড়িয়ে কম্পিউটার ল্যাব সহকারী দেন। কিন্তু তার দাবীকৃত ২ লক্ষ টাকা দিতে না পারায় কোন কারন ছাড়াই ফোনে কলেজে আসতে হবে না মর্মে জানানো হয়।
এ বিষয়ে কলেজ পরিচালিত জাস ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানজিলা সুলতানা বলেন, অধ্যক্ষ আবদুস ছামাদের এমন কর্মকান্ডে আমরা বিস্মিত। বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি। এমন জঘন্যতম কোন কর্মকান্ডে বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কোন প্রকার নির্দেশনা আমাদের জাস ফাউন্ডেশন ও কলেজ কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। বিষয়টি সত্যি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে জাস ফাউন্ডেশন।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুস ছামাদ বলেন, বিষয় গুলো সত্যি না। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে শত্রুতা করে এমন কিছু বলে থাকে সেটা আমার জানা নেই। তবে নিয়োগ দেয়া বা কাওকে বাদ দেয়া এটা একান্তই জাস ফাউন্ডেশনের বিষয়। আমি নিয়োগের নামে কারো কাছ থেকে টাকা চাইনি।