ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

সাতক্ষীরায় ট্রলিচাপায় শিশুর মৃত্যু: নেপথ্যে নদী খননের মাটি লুটের মহোৎসব


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:১০ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর সানা পাড়া গ্রামে মাটিবাহী ট্রলির ধাক্কায় ওমর ফারুক নামের তিন বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক ওই গ্রামের আরাফাতের ছেলে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ ট্রলি ও ‘হল্লাগাড়ি’র বেপরোয়া চলাচল ছিল আতঙ্কের কারণ। গ্রামের সরু সড়কে এসব যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন গতি যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছিল। অবশেষে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয় শিশুটির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধুলিহর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদী সম্প্রতি সরকারিভাবে খনন করা হয়েছে। খননের ফলে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ মাটি এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ও অসাধু চক্রের দখলে চলে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে এবং কখনো দিনের বেলাতেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই সরকারি মাটি ট্রলি ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই মাটি লুটপাটে জড়িত। ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর স্থিতিশীলতা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদী পুনরায় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকার অভিভাবক আব্দুল হাই বলেন, মাটি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও ট্রলিগুলো অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে রাস্তায় ধুলোবালির প্রকোপ বাড়ছে এবং শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আজ শিশু ওমরের মৃত্যু সেই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিরই করুণ পরিণতি।”

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়েছে, একাধিকবার মৌখিকভাবে আপত্তি জানানো হলেও অবৈধ ট্রলি চলাচল কিংবা মাটি চুরি বন্ধ হয়নি।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই মাটি অবৈধভাবে বিক্রি না করে স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, বাজার ও রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা হলে জনস্বার্থ রক্ষা পেত। কিন্তু তা না করে ব্যক্তিগত লাভের জন্য এই সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধভাবে নদী খননের মাটি বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।

নিহত শিশুর পরিবারের আহাজারি এবং এলাকাবাসীর ক্ষোভে ধুলিহর এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি—এমন অবহেলা ও অনিয়মের কারণে আর কোনো নিরপরাধ শিশুর প্রাণহানি যেন না ঘটে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর