সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ ট্রলি ও ‘হল্লাগাড়ি’র বেপরোয়া চলাচল ছিল আতঙ্কের কারণ। গ্রামের সরু সড়কে এসব যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন গতি যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছিল। অবশেষে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয় শিশুটির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধুলিহর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদী সম্প্রতি সরকারিভাবে খনন করা হয়েছে। খননের ফলে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ মাটি এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ও অসাধু চক্রের দখলে চলে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে এবং কখনো দিনের বেলাতেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই সরকারি মাটি ট্রলি ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই মাটি লুটপাটে জড়িত। ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর স্থিতিশীলতা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদী পুনরায় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকার অভিভাবক আব্দুল হাই বলেন, মাটি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও ট্রলিগুলো অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে রাস্তায় ধুলোবালির প্রকোপ বাড়ছে এবং শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আজ শিশু ওমরের মৃত্যু সেই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিরই করুণ পরিণতি।”
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়েছে, একাধিকবার মৌখিকভাবে আপত্তি জানানো হলেও অবৈধ ট্রলি চলাচল কিংবা মাটি চুরি বন্ধ হয়নি।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই মাটি অবৈধভাবে বিক্রি না করে স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, বাজার ও রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা হলে জনস্বার্থ রক্ষা পেত। কিন্তু তা না করে ব্যক্তিগত লাভের জন্য এই সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধভাবে নদী খননের মাটি বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।
নিহত শিশুর পরিবারের আহাজারি এবং এলাকাবাসীর ক্ষোভে ধুলিহর এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি—এমন অবহেলা ও অনিয়মের কারণে আর কোনো নিরপরাধ শিশুর প্রাণহানি যেন না ঘটে।
আকাশজমিন / আরআর