ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়রের বাসায় গিয়ে অবরুদ্ধ হাসনাত আবদুল্লাহ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:০৮ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুটি গাড়িতে করে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় পৌঁছালে তার উপস্থিতির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বাসার মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে কেন সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, যাকে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন। তারা তার উদ্দেশে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন এবং “আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান” সহ নানা স্লোগান দেন।

পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এরপর হাসনাত আবদুল্লাহ বাসার বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন এবং পরে পুলিশের নিরাপত্তায় দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় তিনি বাসার ভেতর ও বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় আটকে ছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক ইতিহাসও দীর্ঘ ও জটিল। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন প্রায় দুই বছর। পরে ২০১০ সালের চসিক নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে ভোট বর্জনের পর তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। যদিও এরপরও তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানা যায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর