অনলাইন রিপোর্টার
আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল-এর ১৯ মে নির্ধারিত সদস্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় উপস্থিত সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তীতে বার কাউন্সিলের সচিবের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী বিদ্যমান তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় আইনজীবীদের জন্য নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাধারণ আসনের ৭টি এবং আঞ্চলিক আসনের ৭টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, ঢাকা আইনজীবী সমিতি এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন বার সমিতির পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আবেদন ও অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তটি আইনজীবী সমাজের বৃহত্তর স্বার্থ এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন তারিখ পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
আইনজীবী মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলেও অনেকে দ্রুত নতুন নির্বাচনী তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বার কাউন্সিল নির্বাচন আইনজীবী সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। তাই স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেই পরবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত।
সব মিলিয়ে, চলমান জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আইন অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।