ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

তেল নেই, বিদ্যুৎও অনিয়মিত—নাকাল সৈয়দপুরবাসী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:২৬ পিএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে একদিকে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তেল নেই, বিদ্যুৎও অনিয়মিত—দুই সংকটে নাকাল হয়ে পড়েছেন শহরের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। দিনে গড়ে ৫ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নাগরিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল সংগ্রহ করতে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না। ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে পরিবহন খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম—দুটোরই অপচয় হচ্ছে।

অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় শহরের বাসিন্দারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছাড়াই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটছে।

শহরের গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। কখন আসবে তারও কোনো ঠিক নেই। গরমে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।”

একজন মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তেল নিতে এসে ৫/৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় পেট্রোল পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেলে মোটরসাইকেল হেঁটেই বাড়ি নিয়ে যেতে হয়। খালি হাতেই ফিরতে হয়।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, “বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ফ্রিজ, ফ্যান কিছুই ঠিকমতো চালানো যায় না। এতে করে ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়ছি।”

শুধু ব্যবসা নয়, হাসপাতাল, ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর