ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

কুড়িগ্রামে বড়াইবাড়ী দিবস পালিত, শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:১০ পিএম

কুড়িগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বড়াইবাড়ী যুদ্ধে শহীদ তিন বিডিআর সদস্যের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, রাজিবুল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক এবং সদস্য সচিব মোস্তাফিজার রহমান রঞ্জুসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, বড়াইবাড়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এ যুদ্ধে বিডিআর সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাহসিকতা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারা শহীদদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণের পাশাপাশি দিবসটিকে সরকারিভাবে পালনের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্ত এলাকায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), স্থানীয় গ্রামবাসী এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। সেদিন ভোরে বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বড়াইবাড়ী গ্রামে অতর্কিত হামলা চালালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় বিডিআর সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের সাহসী প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ওই সংঘর্ষে ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের শহীদ হন। অপরদিকে বিএসএফের ১৬ সদস্য নিহত হয় বলে জানা যায়।

দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আবেগ ও গর্বের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অনেকেই মনে করেন, এ যুদ্ধের যথাযথ মূল্যায়ন এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, বড়াইবাড়ী দিবস জাতীয় পর্যায়ে উদযাপন করা হলে দেশের সীমান্ত রক্ষার ইতিহাস আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর