হবিগঞ্জের মাধবপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি ফয়সাল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। তিনি উপজেলার শাহজাহানপুর গ্রামের মোঃ দেওয়ান আলীর ছেলে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগী মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত ফয়সাল মিয়া (৩৪) একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সুবাদে অভিযুক্তের তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। এ সুযোগে তিনি ধীরে ধীরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। প্রায় এক বছর আগে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগীর পিতা তাকে বাড়িতে আসা-যাওয়া করতে নিষেধ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও অভিযুক্ত বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
ঘটনার দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে অভিযুক্ত মোবাইল ফোনে ডেকে ভুক্তভোগীকে তার নতুন বসতঘরে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। ভুক্তভোগী এতে রাজি না হলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তারিখ: ১৭/০৪/২০২৬)।
মামলা দায়েরের পর র্যাব-৯ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন গোপায়া ইউনিয়নের ধুলিয়াখাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত ফয়সাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার-সমাজের যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।