সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলায় দিরাই, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার বিভিন্ন হাওরে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে হাওরে ধান কাটা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত কৃষকরা বিপাকে পড়েন। অনেকেই তখনো মাঠে কাজ করছিলেন। ঝড়ের সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত, এতে একাধিক স্থানে কৃষকরা আহত ও নিহত হন।
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হাঁস পাহারা দেওয়ার সময় আবুল কালাম বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওর পাড়ের পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বজ্রপাতে নিহত হন। একই এলাকায় আরও একজন কিশোরসহ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬) হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে তিনি আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাননি।
দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একইভাবে ধর্মপাশা উপজেলার রহমত উল্লাহ (১৩) মাঠে অবস্থানকালে বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এ ঘটনায় হাওরাঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল কৃষকদের হাওরে কাজ করার সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেন।
এছাড়া জেলার প্রত্যেকটি হাওরে বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন হাওরবাসী। তাদের মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে, তাই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।