ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

হজাদপুরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ, দুই শ্রমিক আশঙ্কাজনক


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৩৪ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি দুধের কারখানার বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কারখানার দুই শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের দুর্গাদহ গ্রামে রূপ কুমার ঘোষের মালিকানাধীন দুধের কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানার পাশে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে। শনিবার দুপুরে মমিন (৩৫) ও লাল চাঁদ (৪৫) নামের দুই শ্রমিক প্ল্যান্টটি পরিষ্কার করার জন্য ভেতরে নামেন। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত একজন শ্রমিক সিগারেট জ্বালালে সেখানে জমে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরে থাকা দুই শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন।

পরে গুরুতর অবস্থায় দগ্ধ দুই শ্রমিককে শাহজাদপুরের পিপিডি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, “আহত দুই শ্রমিকের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।”

কারখানার মালিক রূপ কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বায়োপ্লান্ট পরিষ্কার করার জন্য তারা নিচে নেমেছিল। সেখানে একজন সিগারেট ধরানোর ফলে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে।”

এদিকে শাহজাদপুর থানার (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণের বিষয়টি শুরুতে পুলিশকে কেউ জানায়নি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ করার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি, যার ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে জমে থাকা গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় সেখানে আগুনের সংস্পর্শ মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই এ ধরনের স্থানে কাজ করার সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের সুস্থতা কামনা করছেন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর