সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে উর্মি খাতুন (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে উপজেলার বামনখালি বাজার সংলগ্ন একটি পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত উর্মি খাতুন খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কাটিপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। পারিবারিক কারণে সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কলারোয়া উপজেলার বামনখালী বাজার এলাকায় বসবাস করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উর্মির বাবা-মা দুজনেই দিনমজুরের কাজ করেন। রবিবার সকালে তারা কাজে বের হলে উর্মি খাতুন বাড়ির পাশেই অন্য দুই শিশুর সঙ্গে পুকুরপাড়ে খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অগোচরে সে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। আশপাশে কেউ বিষয়টি খেয়াল না করায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে শিশুটি।
দুপুরের দিকে কাজ শেষে বাবা-মা বাড়িতে ফিরে এসে উর্মিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে খোঁজ চালানো হয়। একপর্যায়ে পুকুরের পানির নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, পুকুরপাড়ে শিশুদের খেলাধুলার সময় তদারকি না থাকায় এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল বলছে, গ্রামাঞ্চলে খোলা পুকুর ও জলাশয় শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি, পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
তারা আরও বলেন, বিশেষ করে দিনমজুর পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ কাজের প্রয়োজনে বাবা-মা বাইরে থাকায় শিশুদের তদারকির ঘাটতি দেখা দেয়।
উর্মির অকাল মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর